Image description

বর্তমান সরকার এবং দেশি-বিদেশি শক্তি নির্বাচনকে সুষ্ঠু হওয়ার পথে বাধা তৈরি করছে অভিযোগ করে জামায়াতে ইসলামী বলছে, দেশ একটি ‘নীল নকশার’ নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে কি না তা নিয়ে তাদের ও জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

রোববার প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তার বাসভবন যমুনায় সমসাময়িক বিষয় নিয়ে বৈঠক শেষে বিফ্রিংয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের তার দলের এমন অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার এবং দেশি-বিদেশি শক্তি মিলে নির্বাচনকে সুষ্ঠু হওয়ার পথে বাধা তৈরি করছে। একটি নীল নকশার নির্বাচনের দিকে যাচ্ছি কি না, সে ব্যাপারে আমাদেরও সন্দেহ তৈরি হচ্ছে, দেশে জনমনেও প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।

“কারণ বাংলাদেশের সরকারপ্রধান লন্ডনে গিয়ে একটি দলের সাথে বৈঠক করে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা, এটা নজিরবিহীন ঘটনা। এতে করে তার নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হয়েছে, একটি দলকে বেনিফিট দেওয়া হয়েছে। মানুষের পারসেপশন তৈরি হয়েছে যে এই দল আগামী নির্বাচনে সরকারের সুবিধা....।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে আর কোনো নীল নকশার নির্বাচন হবে না, হতে দেওয়া হবে না। আমরা উদ্বিগ্ন যে, বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে কোনো ধরনের পরিকল্পিত একটা নীল নকশার নির্বাচন আবার করা যায় কিনা সেই উদ্রেক তৈরি করছে।

“আমরা স্পষ্ট করে বলছি, বাংলাদেশে কোনো নীলনকশার নির্বাচন হবে না, হতে দেওয়া হবে না। এবং এই সরকারকে জাতিকে নিয়ে সেই উদ্যোগ নিয়ে সেই পরিস্থিতিকে নিশ্চিত করতে হবে যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ অনুষ্ঠিত হয়।”

তাহের আরও বলেন, “আমরা তো প্রস্তুতি রাখিনি। তাহলে প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন আয়োজনের কারণে আপনিও প্রশ্নবিদ্ধ হবেন। আমরা নির্বাচন চাই ফেব্রুয়ারিতে কিন্তু তার আগে এইসব প্রশ্নের সকলে মিলে একটা সমাধান করতে হবে। সকলের সন্তুষ্টি ও সম্মতির ভিত্তিতে এবং অংশগ্রহণের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ে একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য উৎসবমুখর নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।

“আগে একটা গ্রুপ বাসস্থান দখলে নিয়েছিল এখন আর একটা গ্রুপ বাস স্ট্যান্ড দখলে নিয়েছে, আগে একটা গ্রুপ চাঁদাবাজি করতে এখন আর একটা গ্রুপ চাঁদাবাজি করছে। এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই দখলদারদের ব্যাপারে কোনো ভূমিকা নিয়েছে আমরা সেটা দেখি না। এটা শুধু একটি দলে দায়িত্ব না, সরকারের দায়িত্ব।”

এর আগে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করতে বিকাল সোয়া ৪টার দিকে যমুনায় যায় জামায়াতের প্রতিনিধি দল।

দলটির নায়েবে আমির তাহেরের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন— দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান ও হামিদুর রহমান আযাদ।

এ বৈঠকের পর প্রধান উপদেষ্টা যথাক্রমে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বিএনপির সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন।