Image description

হাওরাঞ্চল সবসময়ই অবহেলিত। ইটনা-মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম হাওরবাসীরা কী কষ্ট, কী দুর্ভোগ ভোগ করে এখানকার মানুষজন বেঁচে আছেন—এটা অনেকেই জানেন না। আর তাই কৃষিনির্ভর এ হাওরাঞ্চলকে যদি প্রযুক্তিগতভাবে আলোকিত করা যায়—তাহলে হাওরাঞ্চল আর অন্ধকারে থাকবে না—এমনটাই বলছিলেন সমাজকর্মী, গবেষক ও উদ্যোক্তা কাজী রেহা কবির সিগমা। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে একমাত্র স্বতন্ত্র নারী পদপ্রার্থী। ‘আলোকিত হাওরের স্বপ্ন’ এই স্লোগান ধারণ করে তিনি ‘ফুটবল’ মার্কা নিয়ে কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম) আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

রাজনীতি প্রতিশ্রুতির নয়—পরিবর্তনের অঙ্গীকার। এ প্রসঙ্গে কাজী রেহা কবির সিগমা গণমাধ্যমে বলেন, এখন মানুষ পরিবর্তন চায়। সেটা শুধু ক্ষমতার নয়, এটা চায় উন্নয়নের পরিবর্তন—আলোর পরিবর্তন। এ জন্য আমি রাজনৈতিক পরিবারেরই সন্তান হিসেবে দেশের মানুষের জন্য—বিশেষ করে ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রামের জনগণের কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করতেই এই নির্বাচনে আসা। এ সময় সংসদীয় এলাকার মানুষকে সম্মানের জায়গায় নিয়ে যেতে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

রাজনৈতিক দলের চর্চা প্রসঙ্গে কাজী সিগমা বলেন, কোনো নেতাভিত্তিক নেত্রী হতে চাই না বা নেতা হতে চাই না। আমি জনগণভিত্তিক—কর্মীভিত্তিক রাজনীতি করতে চাই। তিনি বলেন, ‘দলের মধ্যে কোনো গণতন্ত্র এখনও আসেনি। দলগুলোতে এখনও সংস্কার হয়নি বলে আমি কোনো দলে যাইনি। দলগুলো যখন সংস্কার হবে, কারও কাছে একক নেতা বা নেত্রীর কাছে আমি যখন দায়বদ্ধ থাকব না, এটা যখন ওপেনভাবে কারও সঙ্গে কথা বলতে পারব, সমস্যাগুলো নিয়ে আমার নেতানেত্রীর কাছে যেতে পারব—তখনই মনে করব আমার সময় এসেছে দলে যোগদান করার। এর আগে আমার কোনো ইচ্ছে নেই কারও চাটুকারিতা করার—কারও লেজুরভিত্তিক রাজনীতি করার।’

নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে কাজী সিগমা বলেন, আমি যদি সংসদে যেতে পারি—তবে নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করার অগ্রণী ভূমিকা রাখব। বিশেষ করে হাওর এলাকার অর্ধেক হচ্ছে নারী। এসব নারীদের টেকনিক্যাল ট্রেনিং দিয়ে তাদের জীবনমান উন্নতিকল্পে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করব। তিনি হাওরাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে নিজ জমিতে ৫০ শয্যার একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণসহ কৃষি বিশেষ হাব ও সামাজিক সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দেন।

নির্বাচনী ইশতেহারে কাজী রেহা কবির সিগমা কিশোরগঞ্জ-৪ সংসদীয় এলাকায় যোগাযোগ, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য খাত, শিক্ষা, জলাবদ্ধতা, নদীভাঙনসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে অবদান রাখার অঙ্গীকার করেন। তিনি সামাজিক সুরক্ষা ও সম্প্রীতি বজায় রাখার অঙ্গীকার করে মাদকের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি বাস্তবায়ন করে মাদক-সন্ত্রাস নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। এছাড়া শিশুদের জন্য প্রতিটি উপজেলায় একটি করে আধুনিক শিশুপার্ক স্থাপনের কথাও জানান। এছাড়া দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানসহ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানিতে মিথ্যা মামলা ব্যবহার রোধে তিনি দৃঢ় ভূমিকা নেবেন বলে উল্লেখ করেন।

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী রেহা কবির সিগমা ছাড়াও আরও সাতজন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন—বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অ্যাডভোকেট রোকন রেজা শেখ, স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. শাহীন রেজা চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বিল্লাল আহমেদ মজুমদার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের খায়রুল ইসলাম ঠাকুর, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের নূরুল ইসলাম এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টির জয়নাল আবেদিন।

জেলা নির্বাচন অফিসের সর্বশেষ তথ্যমতে, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সর্বমোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮ হাজার ৩৫২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১১ হাজার ১৮২ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৯৭ হাজার ১৬৬ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৪ জন। এই আসনে সর্বমোট ভোটকেন্দ্র ১৫০টি, ভোটকক্ষের সংখ্যা ৭৯৬টি এবং অস্থায়ী ভোটকক্ষ রয়েছে ৩০টি।