Image description

‘প্রত্যাশিত বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে দেশবাসীর দোয়া ও সমর্থন চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২১ মার্চ) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কূটনীতিকসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর গণমাধ্যমের কাছে এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, সবাইকে ঈদ মোবারক। একই সঙ্গে এই ঈদে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে আমরা রহমত চাই, যেন আল্লাহ আমাদের সেই রহমত দান করেন, যাতে করে আমরা বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ ধীরে ধীরে গড়ে তুলতে পারি।

“আজকের এই ঈদের দিনে দেশবাসীর কাছে আমি দোয়া চাই। একই সঙ্গে দেশবাসীর কাছে আমি অনুরোধ জানাব, আপনাদের সহযোগিতা থাকলে ইনশাআল্লাহ আপনাদের এই নির্বাচিত সরকার দেশকে আপনাদের চাওয়া অনুযায়ী গড়ে তোলার কাজে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাবে।”

১৯৭১ সালের বীর শহীদ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদ ও গণতন্ত্রের যোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

‘আজকের দিনে দলমত নির্বিশেষে সকল মানুষ ইনশাআল্লাহ ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন’—এই প্রত্যাশা করেন প্রধানমন্ত্রী।

বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে ঈদ মোবারক জানিয়ে বলেন, বহু বছর পর আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ইচ্ছায় এবং বাংলাদেশের মানুষের দোয়ায় আমি এবং আমার পরিবার দেশের মাটিতে দেশের মানুষের সঙ্গে ঈদ পালন করতে সক্ষম হয়েছি। এর জন্য আমি প্রথমেই আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি এই দেশের একজন নাগরিক হিসেবে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে দোয়া করি, যেন আল্লাহ আমাদের সেই রহমত দান করেন, যার ফলে এ বছরের মতো ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের মানুষ নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারে।

“ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতের ঈদগুলোতে আমরা যেন আরও বেশি শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারি, দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে।”

এর আগে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রবেশ করে প্রথমে কূটনীতিকদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

পরে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এরপর প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনসহ অন্যান্য কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তিন বাহিনীর প্রধান, বিজিবি প্রধান, পুলিশ প্রধানসহ সরকারি উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এরপর প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন পেশার নাগরিকসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পাশে তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

যমুনায় প্রধানমন্ত্রীকে সালাম জানাতে বিভিন্ন পেশাজীবী শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ছাড়াও শ্রমজীবী মানুষজন আসেন। একনজর প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে মানুষের ঢল নামে যমুনায়। প্রধানমন্ত্রী এই ভিড়ের মধ্যেও মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ব্যাপক মানুষের উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে নিরাপত্তাকর্মীদের বেগ পেতে হয়।

অতিথিদের জন্য যমুনায় ছিল আপ্যায়নের ব্যবস্থা।