Image description

মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান নগদের ব্যাপারে নতুন সরকারের নীতি অনুয়ায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। মঙ্গলবার গভর্নরের সাথে বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীর প্রতিনিধি হিসেবে গভর্নরের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে।

মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নগদে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। গত ৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানের লেখা চিঠিতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরীক্ষা পরিচালনার অনুমতি চেয়ে অনুরোধ করা হয়।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) নগদে বিদেশি বিনিয়োগ আনার প্রস্তাব নিয়ে গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেন ব্যারিস্টার আরমান। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, নগদের মালিকানা নিয়ে নতুন সরকারের অবস্থান কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট না হওয়ায় আপাতত তাকে অপেক্ষা করতে বলেছেন গভর্নর।

ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান বলেছেন, ‘নগদের ব্যাপারে নতুন সরকারের নীতি কী হবে, সেটা এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। নতুন সরকার যদি সিদ্ধান্ত নেন যে অন্তর্বর্তী সরকারের মতো তারা এটি ব্যক্তি খাতে ছেড়ে দেবেন, বিনিয়োগকারীদের কাছে এটা ছেড়ে দেবেন, তাহলে সেটা হবে। আর যদি কোনো ভিন্ন সিদ্ধান্ত আসে সেটা হবে।’

নগদ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, আমরা কিছুদিন অপেক্ষা করি। দেখি যে, রাষ্ট্রের কোনো কনসার্ন্ড মিনিস্ট্রি থেকে এই ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা আসে কিনা। তাদের মনোভাব বোঝা গেলে বাংলাদেশ ব্যাংক সে অনুসারে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তবে যে পদক্ষেপই গ্রহণ করা হোক, সেটা অবশ্যই আইনের স্বার্থে।’

পরবর্তীতে পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র নেতারা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সাথে বৈঠক করেন। এসময় শ্রমিকদের ২ মাসের বেতনের সমপরিমাণ ১৪ হাজার কোটি টাকা সহজ শর্তে ঋণসহ সরকারের কাছে প্রণোদনা চান তারা।

বিজিএমইএ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট শিহাব উদ্দুজা চৌধুরী বলেন, ‘দুই মাসের একটা সফট লোন চেয়েছি, যাতে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন দিলে গার্মেন্টস ইনডাস্ট্রির অসুবিধা না হয়। কারণ আপনারা জানেন, সবগুলো ফ্যাক্টরি কিন্তু ইনসেনটিভ পায় না। কিছু ফ্যাক্টরি আছে যেমন উভেন ফ্যাক্টরি ও সোয়েটার ফ্যাক্টরি- এরা কিন্তু ইনসেনটিভ খুব কম পায়।’

বিজিএমইএ নেতাদের দাবি, গেল দেড় বছর ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ব্যবসা করতে পারেননি তারা। এজন্য প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তার দাবি তাদের।