Image description

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধে সাড়ে সাত মাসেও ভারত সরকারের কাছ থেকে কোনো সাড়া পায়নি বাংলাদেশ। সোমবার (৪ আগস্ট) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, “আমরা তো এটা কখনোই গোপন করিনি, বরং বারবার বলেছি—আমরা চাই তাকে ফেরত দেওয়া হোক, যাতে বিচারের সম্মুখীন করা যায়। কিন্তু ভারত থেকে এখনও কোনো পজিটিভ রেসপন্স আসেনি।”

২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা চলমান। চলতি বছরের ২৩ ডিসেম্বর দিল্লিকে পাঠানো কূটনৈতিকপত্রে হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো তখন জানায়, দিল্লি এ বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় আছে এবং চিঠির জবাব দিতে সময় নিতে পারে।

এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “এই মুহূর্তে তেমন কোনো প্রয়োজন দেখছি না। ভবিষ্যতে যদি দরকার হয়, তখন ভেবে দেখা হবে।”

এদিকে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কেও টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। বন্দি বিনিময় চুক্তি উপেক্ষা করে ভারত সীমান্ত দিয়ে অব্যাহতভাবে বাংলাদেশি পরিচয়ে লোকজনকে ‘পুশ ইন’ করছে। ৭ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ভারত বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছে ১ হাজার ২২২ জনকে।

এই পুশ ইন প্রক্রিয়াকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ উল্লেখ করে তৌহিদ হোসেন বলেন, “আমরা বারবার বলেছি—তালিকা দিয়ে আমাদের জানাও, আমরা নাগরিকত্ব যাচাই করে ফিরিয়ে নেব। কিন্তু ভারত প্রক্রিয়া মানছে না, যা দুঃখজনক।”

ভারতের এই অবস্থানের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অবস্থান কেমন হবে—জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, “যুদ্ধ তো করব না নিশ্চয়। কূটনৈতিকভাবেই এগোচ্ছি। এখনো সফল না হলেও, আমরা আশাবাদী—একসময় সাফল্য আসবে।”