Image description

পিঠে হঠাৎ চুলকানি উঠলে যতক্ষণ না মনের সুখে চুলকানো যায়, ততক্ষণ যেন শান্তি আসে না। এ জন্য বাড়ির বড়রা প্রায়ই ছোটদের ডাক দেন ‘পিঠটা একটু চুলকে দে তো!’ এই সাধারণ আবদার থেকেই জন্ম নিয়েছে এক অভিনব পেশা, যার মাধ্যমে ঘণ্টায় রোজগার করা যাচ্ছে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার টাকা।

শুনতে অবাক লাগলেও এটি বাস্তব। বিদেশের বিভিন্ন দেশে এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘স্ক্র্যাচ থেরাপি’ নামের এক বিশেষ সেবা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটিতে প্রশিক্ষিত পেশাদাররা স্টুডিও ও স্পা-তে নির্দিষ্ট সময় ধরে পিঠ বা শরীর চুলকে দেওয়ার সেশন পরিচালনা করছেন।

এই থেরাপির জন্য গ্রাহকদের ঘণ্টাপ্রতি গুনতে হচ্ছে প্রায় ১০০ মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১২ হাজার ২০০ টাকারও বেশি। ঠিক যেমনভাবে মানুষ ম্যাসাজ বা ফেসিয়ালের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট করেন, তেমনভাবেই ‘স্ক্র্যাচিং সেশন’-এর সময় বুক করেন তারা।

তবে এটি সাধারণ চুলকানি নয়। এই থেরাপিতে নখের হালকা ও নিয়ন্ত্রিত স্পর্শ ব্যবহার করা হয়। পিঠ, ঘাড় কিংবা মাথার ত্বকে ধীর গতিতে নখ বোলানোর মাধ্যমে স্নায়ুতন্ত্রকে শিথিল করা হয়। উদ্দেশ্য শরীর ও মনের ওপর আরামদায়ক প্রভাব সৃষ্টি করা।

গবেষণায় দেখা গেছে, স্ক্র্যাচ থেরাপিতে ত্বক ও মস্তিষ্কের পারস্পরিক যোগাযোগকে কাজে লাগানো হয়। ত্বকে আলতো আঁচড় সংবেদী স্নায়ুকে সক্রিয় করে, যা মস্তিষ্কে আরামের সংকেত পাঠায়। এর ফলে এন্ডরফিন ও সেরোটোনিনের মতো ‘হ্যাপি হরমোন’ নিঃসৃত হয়, যা মানসিক চাপ কমাতে, মেজাজ ভালো রাখতে এবং ঘুমের সমস্যায় সহায়ক ভূমিকা রাখে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর এই থেরাপির চাহিদা আরও বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই এটি শুধু পিঠ নয়, পুরো শরীরেও প্রয়োগ করা হচ্ছে।

একসময় পারিবারিক অনুরোধ হিসেবে পরিচিত ‘পিঠ চুলকে দেওয়া’ এখন বিদেশে রীতিমতো একটি লাভজনক পেশায় পরিণত হয়েছে যা নেটদুনিয়ায় কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি