Image description

আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে সূর্য। একের পর এক শক্তিশালী সোলার ফ্লেয়ার নির্গত হওয়ায় নাসাসহ বিশ্বের বিভিন্ন মহাকাশ সংস্থাগুলো সতর্কতা জারি করেছে। সম্ভাব্য তীব্র রেডিও ব্ল্যাকআউট পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে তারা।

তীব্র সৌরঝড় পৃথিবীর দিকে ধেয়ে এলে তা উপগ্রহ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, ব্যাহত হতে পারে টেলিভিশন সম্প্রচার। এ ছাড়া রাডার ও বিদ্যুৎ গ্রিডের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। নাসা জানিয়েছে, ১ ও ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এসব ফ্লেয়ারের তীব্রতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।

মহাকাশ আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এটি ২০২৪ সালের অক্টোবরের পর ২০২৪-এর পর সবচেয়ে উজ্জ্বল সোলার ফ্লেয়ার। আর ১৯৯৬ সাল থেকে আধুনিক উপগ্রহ পর্যবেক্ষণ শুরু হওয়ার পর রেকর্ডকৃত সবচেয়ে শক্তিশালী ২০টি ফ্লেয়ারের অন্যতম।

সূর্য প্রায় প্রতি ১১ বছর অন্তর তীব্র ক্রিয়াকলাপের চক্রের মধ্য দিয়ে যায়, যা ‘সোলার ম্যাক্সিমা’ নামে পরিচিত। বর্তমান সৌরঝড় সেই চক্রেরই অংশ। নাসা বলেছে, ‘একটি সোলার ফ্লেয়ার নির্গত হওয়ার সময় যে বিস্ফোরণ হয়, তার মাধ্যমে ১০০ কোটি পারমাণবিক বোমার মতো শক্তি উৎপন্ন হয়।’

সৌরঝড়ের ফলে সরাসরি মানুষের শারীরিক ক্ষতি না হলেও থমকে যেতে পারে প্রযুক্তিনির্ভর জীবন। বিজ্ঞানীরা সতর্ক বলেছেন, সৌরঝড়ের ফলে বায়ুমণ্ডলের আয়নোস্ফিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উচ্চ কম্পাঙ্কের রেডিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।

মহাকাশে থাকা কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটগুলো বিকল হতে পারে। এতে টেলিভিশন সিগন্যাল এবং জিপিএস ব্যবস্থায় বড় ধরনের গোলমাল দেখা দিতে পারে। জিপিএস বিঘ্নিত হলে সমুদ্রে জাহাজ বা মাঝ আকাশে বিমানে দিকনির্ণয় করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। শক্তিশালী সৌরঝড় পৃথিবীর পাওয়ার গ্রিডগুলোতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে বড় ধরনের ব্ল্যাকআউটও ঘটাতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই সৌরঝড়ের একটি নান্দনিক দিকও আছে। এর প্রভাবে উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর আকাশে মেরুপ্রভা বা ‘অরোরা’র উজ্জ্বলতা বহুগুণ বেড়ে যাবে।

সূত্র: ফক্স ওয়েদার