Image description

বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী নিকোলা টেসলা এক শতাব্দী আগে বাতাসের আর্দ্রতা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। দীর্ঘ সময় পর আধুনিক বিজ্ঞানের কল্যাণে সেই অভাবনীয় চিন্তা এখন বাস্তবের দ্বারপ্রান্তে।

ম্যাসাচুসেটস অ্যামহার্স্ট বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের গবেষক দল এখন বাতাসে ভাসমান পানির অণু থেকে বৈদ্যুতিক চার্জ সংগ্রহের নতুন নতুন পন্থা উদ্ভাবন করছেন, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘হাইগ্রোইলেকট্রিসিটি’। এই প্রযুক্তি সফল হলে আমাদের চারপাশের সাধারণ বাতাসই হয়ে উঠতে পারে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা ব্যবহারযোগ্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির এক অফুরন্ত উৎস।

ম্যাসাচুসেটস অ্যামহার্স্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জুন ইয়াও এবং তার সহকর্মীরা দুর্ঘটনাবশত এই প্রযুক্তির সূত্র খুঁজে পান।

তারা গবেষণায় দেখেন, বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিয়া থেকে তৈরি প্রোটিন তন্তু বা গ্রাফিন অক্সাইডের মতো সূক্ষ্ম ছিদ্রযুক্ত কাঠামো বাতাসের পানির অণুকে আটকে ফেলে চার্জ তৈরি করতে পারে। এটি অনেকটা মেঘের মধ্যে বজ্রপাত সৃষ্টির প্রক্রিয়ার মতোই, তবে অনেক ক্ষুদ্র এবং নিয়ন্ত্রিত পরিসরে।

বর্তমানে ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা ডিভাইসগুলো মানুষের চুলের চেয়েও সরু হলেও তা দিয়ে ছোট সেন্সর বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস চালানো সম্ভব হচ্ছে।

গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়, পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তেই বাতাস থেকে বিদ্যুৎ সংগ্রহ করতে সক্ষম।

একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে ইসরায়েল এবং পর্তুগালের গবেষক দলগুলোও।

পর্তুগালের লিসবন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী সভিৎলানা ল্যুবচিক জিরকোনিয়াম অক্সাইডের চাকতি ব্যবহার করে একটি প্রোটোটাইপ তৈরি করেছেন, যা থেকে দেড় ভোল্ট পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এরকম দুটি চাকতি দিয়ে একটি এলইডি বাতি জ্বালানো সম্ভব।

অন্যদিকে ইসরায়েলের গবেষকরা ধাতব টুকরোর ভেতর দিয়ে ভেজা বাতাস প্রবাহিত করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছেন।

উল্লেখ্য যে, এই ধারণার প্রথম সূত্রপাত হয়েছিল ১৮৪০ সালে নিউক্যাসলের এক কয়লাখনির স্টিম ইঞ্জিন থেকে উৎপন্ন বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গ পর্যবেক্ষণ করার মাধ্যমে।

তবে এই নতুন প্রযুক্তি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের প্রকৌশলী রেশমা রাও এবং ক্যানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, এটি দিয়ে এখনই পুরো বাড়ি বা গাড়ি চালানো সম্ভব হবে না।

বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য একদিকে যেমন বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ বাড়াতে হবে, অন্যদিকে সৌর বা বায়ুচালিত বিদ্যুতের মতো খরচও কমিয়ে আনতে হবে। তবে আধুনিক প্রযুক্তির যুগে ছোট ছোট সেন্সর বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস চালানোর জন্য হাইগ্রোইলেকট্রিসিটি এক বৈপ্লবিক সমাধান হতে পারে।

টেসলার সেই পুরোনো ভাবনা আজ নতুন করে জ্বালানি সংকটের টেকসই সমাধানে আশার আলো দেখাচ্ছে।