Image description

ফলের দোকানে আম, কলা, আঙুর বা তরমুজ দেখে মুখ চটকানো স্বাভাবিক। তবে ডায়াবেটিস থাকলে অনেকেই চিন্তায় পড়েন।

“ফল খেলে কি ব্লাড সুগার হঠাৎ বেড়ে যাবে?” এই ভয়ের কারণে অনেক রোগী ফল একেবারে বাদ দেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি সব সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নয়।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ফল স্বাস্থ্যকর হতে পারে, যদি ফলের ধরন, পরিমাণ এবং খাওয়ার সময় সঠিকভাবে মেনে চলা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সব ফলের শর্করার পরিমাণ সমান নয়। কিছু ফলের প্রাকৃতিক চিনি বেশি, আবার কিছু ফলের ফাইবার বেশি থাকায় রক্তে শর্করা ধীরে বৃদ্ধি পায়। আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন অনুযায়ী, ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) এবং ফাইবারের পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ।

নিরাপদ ফলের মধ্যে রয়েছে: আপেল, পেয়ারা, নাশপাতি, কমলা, মাল্টা, পেঁপে, বেরিজ জাতীয় ফল যেমন স্ট্রবেরি এবং বেদানা। এই ফলগুলো রক্তে শর্করা ধীরে বৃদ্ধি করে।

তবে কিছু ফলের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। আম, কলা, কাঁঠাল, আঙুর ও লিচুতে প্রাকৃতিক চিনি বেশি থাকে। এগুলো একেবারে নিষিদ্ধ নয়, তবে অল্প পরিমাণে এবং নিয়মিত নয় খাওয়া উচিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, অতিরিক্ত চিনি যেকোনো উৎস থেকে রক্তে শর্করা বাড়াতে পারে।

ফলের রসের দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। এতে ফাইবার কম থাকে, চিনি বেশি থাকে এবং রক্তে শর্করা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তাই গোটা ফল খাওয়া সবসময় বেশি নিরাপদ।

খাওয়ার সময়ও গুরুত্বপূর্ণ। খালি পেটে না খেয়ে দিনের মাঝামাঝি সময় বা হালকা নাস্তা হিসেবে ফল খেলে রক্তে শর্করার ওঠানামা কম থাকে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, এক বেলায় এক ধরনের ফলই যথেষ্ট।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ফল শত্রু নয়, তবে সঠিক ফল, সঠিক পরিমাণ এবং সঠিক সময় মেনে খাওয়া জরুরি।