Image description

দুধ হচ্ছে ‘সুষম খাদ্য’। এতে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম, প্রোটিন ও ভিটামিন রয়েছে । যা সুস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত দুধ পান করা হলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ হয়। আবার শক্তি সরবরাহ হয়।

দুধ উপকারী হলেও পানীয়টি ভুল খাবারের সঙ্গে পান করা হলে উপকারের বিপরীতে শরীরের জন্য ক্ষতির সম্ভাবনাই বেশি। ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আয়ুর্বেদ ও আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান, উভয় ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট কিছু খাবারের সঙ্গে দুধ পান করাকে ক্ষতিকর বলে মনে করা হয়। সেসব খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ার কারণে হজমের সমস্যা, ত্বকের রোগ এবং দীর্ঘমেয়াদী বিষক্রিয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাহলে যেসব খাবারের সঙ্গে দুধ খাওয়া ঠিক নয়, সেসব জেনে নেয়া যাক-

টক-জাতীয় ফল:
কমলালেবু, লেবু, আনারস বা আঙুরের মতো টক-জাতীয় ফলের সঙ্গে দুধ পান করা ঠিক নয়। লেবুর অ্যাসিড দুধকে শরীরের ভেতর দইয়ে রূপান্তর করে, যা থেকে পেটব্যথা, গ্যাস ও বুক জ্বালাপোড়া হয়ে থাকে। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের অন্তত ২ ঘণ্টা পর এ ধরনের ফল খাওয়া উচিত।

মাছ-মাংস:
বাঙালি মানেই মাছ-ভাত। বাড়িতে মাছের তারকারি আর দুধ থাকবে না, তা হয় কখনো? যদিও এই খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। মাছ ও মাংসে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি থাকে এবং দুধেও প্রোটিন থাকে। দুই ধরনের প্রোটিন একসঙ্গে গ্রহণ করা হলে শরীরের হজমে কষ্ট হয়। আয়ুর্বেদ অনুযায়ী, এই কম্বিনেশনের কারণে ত্বকে সাদা ছোপ বা ‘লিউকোডার্মা’ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

লবণাক্ত খাবার ও চিপস:
দুধের সঙ্গে লবণাক্ত খাবার যেমন- বিস্কুট, চিপস বা পরোটা খাওয়ার অভ্যাস থাকা স্বাভাবিক। যদিও এভাবে খাওয়া ঠিক নয়। দুধে বিদ্যমান প্রোটিন লবণের সংস্পর্শে গেলে হজমের সমস্যা করে। আর এই অভ্যাস দীর্ঘদিন চলতে থাকলে শরীরে পানি জমার সম্ভাবনা থাকে।

কলা:
কলা উপকারী ফল হলেও আয়ুর্বেদ অনুযায়ী দুধ ও কলা কখনো একসঙ্গে খাওয়া ঠিক নয়। তবে যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন, তারা অবশ্য ‘মিল্কশেক’ ভীষণ পছন্দ করেন। কিন্তু জানেন কি, এই মিশ্রণ শরীরে ভারী ভাব তৈরি করে। আবার সাইনাসের সমস্যাও বাড়ায়। দুধ ও কলা যদি খেতেই চান, তাহলে এতে সামান্য এলাচ বা দারুচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে নিতে পারেন।

তরমুজ ও শসা:
তরমুজ হচ্ছে তরল-জাতীয় ফল এবং এটি হজম হতে বেশি সময় নেয় না। বিপরীতে দুধ হজম হতে বেশ সময়ের প্রয়োজন হয়। তরমুজ খাওয়ার পর দুধ পান করলে বিষক্রিয়া বা বমি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। একইভাব শসাও কাজ করে। এ জন্য শসা খাওয়ার পরও দুধ পান না করার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়।