Image description

খাবার থেকে প্রয়োজনীয় পরিমাণ ভিটামিন ‘সি’ না পেলে অনেকেই সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ভিটামিন ‘সি’ সাপ্লিমেন্ট নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, কারণ এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে।

ভিটামিন সি শরীরের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট। এটি টিস্যু মেরামত, কোলাজেন তৈরি, ক্ষত সারানো এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা শরীরের ফ্রি র‍্যাডিক্যাল ক্ষতি প্রতিরোধ করে—যা হৃদরোগ ও ক্যানসারের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের কারণ হতে পারে।

শরীর নিজে থেকে ভিটামিন সি তৈরি করতে পারে না। তাই এটি খাবারের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হয়। সাইট্রাস ফল, বেরি, ক্যাপসিকাম, ব্রকলি ইত্যাদি ভিটামিন ‘সি’–এর ভালো উৎস।

খাবার থেকে ভিটামিন ‘সি’ পর্যাপ্ত না পেলে সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যেতে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত ভিটামিন ‘সি’ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

কীভাবে ভিটামিন ‘সি’ কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়ায়?

ভিটামিন ‘সি’ সাপ্লিমেন্ট শরীরে গিয়ে অক্সালেটে রূপান্তরিত হয়, যা ক্যালসিয়াম অক্সালেট স্টোনের প্রধান উপাদান। এটি কিডনির সবচেয়ে সাধারণ ধরনের পাথর।

প্রতিদিন ১,০০০ মিলিগ্রামের বেশি ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে প্রস্রাবে অক্সালেটের মাত্রা ২০–৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে কিডনিতে স্ফটিক তৈরি হয়, যা ধীরে ধীরে পাথরে রূপ নেয়। বিশেষ করে পুরুষদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বেশি দেখা যায়।

এই ঝুঁকি মূলত সাপ্লিমেন্ট থেকে আসে, ফল বা প্রাকৃতিক খাবার থেকে নয়। কারণ আলাদা করে নেওয়া অ্যাসকরবিক অ্যাসিড শরীর ভিন্নভাবে প্রক্রিয়াজাত করে।

অতিরিক্ত ভিটামিন ‘সি’ লিভারে গিয়ে ভেঙে অক্সালেটে পরিণত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ১–২ গ্রাম ভিটামিন ‘সি’ গ্রহণ করলে সুস্থ মানুষের প্রস্রাবে অক্সালেট নিঃসরণ প্রায় ২২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়, যা কিডনিতে পাথর তৈরির ঝুঁকি বাড়ায়।

প্রধান ঝুঁকির কারণগুলো

মাত্রা (ডোজ): প্রতিদিন ৭০০–১,০০০ মিলিগ্রামের বেশি ভিটামিন ‘সি’ খেলে ঝুঁকি বাড়ে। তবে ৫০০ মিলিগ্রামের কম থাকা সাধারণ মাল্টিভিটামিনে এই ঝুঁকি দেখা যায় না।

লিঙ্গ: পুরুষদের শরীরে ভিটামিন ‘সি’ বেশি মাত্রায় অক্সালেটে রূপান্তরিত হয়।

পূর্ববর্তী সমস্যা: আগে কিডনিতে পাথর হয়ে থাকলে, পানিশূন্যতা, অতিরিক্ত প্রোটিনযুক্ত খাদ্যাভ্যাস বা স্থূলতা থাকলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি কমানোর উপায়

মাত্রা সীমিত রাখুন: প্রতিদিন ৫০০–১,০০০ মিলিগ্রামের বেশি ভিটামিন ‘সি’ গ্রহণ এড়িয়ে চলুন।

খাবারকে অগ্রাধিকার দিন: কমলা, পেয়ারা, ক্যাপসিকাম, আমলকীর মতো প্রাকৃতিক উৎস থেকে ভিটামিন ‘সি’ নিন। এগুলোতে থাকা ফাইবার শোষণ নিয়ন্ত্রণ করে।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন: প্রতিদিন ৩–৪ লিটার পানি পান করলে প্রস্রাব পাতলা থাকে এবং পাথর তৈরির ঝুঁকি কমে।

সুষম খাদ্যাভ্যাস: অতিরিক্ত লবণ ও প্রাণিজ প্রোটিন কমান। কলা, পালংশাকের মতো পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার এবং লেবু পানি (সাইট্রেট) পাথর প্রতিরোধে সহায়ক।

ঝুঁকি মূল্যায়ন করুন: পুরুষ, স্থূলতা বা পানিশূন্যতায় ভোগা ব্যক্তিদের ভিটামিন ‘সি’ সাপ্লিমেন্ট এড়িয়ে চলা উচিত। প্রয়োজনে প্রস্রাবে অক্সালেটের মাত্রা পরীক্ষা করুন।