ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের আরবিল শহরে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলেসহ তিন বাংলাদেশি প্রবাসী প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনায় আরও দুই বাংলাদেশি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বাগদাদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক শোকবার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নিহতরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার পৌর এলাকার মেড্ডা গ্রামের মৃত ইয়াকুব মিয়ার ছেলে তারেক মিয়া (৪৫) ও তার একমাত্র ছেলে সাব্বির (২২) এবং ফেনী জেলার মেহেদী হাসান। অসুস্থদের মধ্যে সাব্বিরের চাচাতো ভাই লিটনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। তারা সবাই আরবিল শহরের একটি ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ড কক্ষে একসঙ্গে বসবাস করতেন।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাতে সেহরি খাওয়ার পর তারা সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন তাদের কোনো সাড়া না পেয়ে মৃতদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) পারভেজ আলম চৌধুরী জানান, ধারণা করা হচ্ছে খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে স্থানীয় প্রবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কক্ষের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিক হয়ে অক্সিজেনের স্বল্পতা তৈরি হওয়ায় ঘুমন্ত অবস্থায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হতে পারে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী বখতিয়ার মোহাম্মদ জানান, ওই কক্ষে মোট পাঁচজন শ্রমিক ছিলেন। তারা রাতে ভাত ও মাছ খেয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ জানিয়েছে, মৃতদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে পরীক্ষা চলছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে ইরাকে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।



