জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জুবাইদুল ইসলাম শামীমের নারী কেলেঙ্কারির ছবি ও ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় জামালপুর জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল শামীমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামালপুর জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি আতিকুর রহমান সুমিল ও সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম শফিক।
জানা যায়, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার পোল্লাকান্দি গ্রামের মাহফুজুর রহমানের স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জুবাইদুল ইসলাম শামীম। মাহফুজুর রহমানের স্ত্রী একজন এক সন্তানের জননী।
গত ১ জানুয়ারি রাতে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার পোল্লাকান্দি গ্রামে মাহফুজুর রহমানের বাড়ির নিজ ঘরে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়েন জুবাইদুল ইসলাম শামীম। ঘটনার পর স্থানীয় জনতা শামীমকে আটক করে গণধোলাই দেয়। পরে তাকে মাহফুজুর রহমানের বাড়িতে বেঁধে রেখে শামীমের অভিভাবকদের খবর দেওয়া হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি গাজী মোস্তাফিজুর রহমান এবং বকশীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কমিশনার কামরুজ্জামান সুজন সমঝোতার মাধ্যমে শামীমকে উদ্ধার করেন। একই বৈঠকে মাহফুজুর রহমান তাঁর স্ত্রীকে তালাক দেন এবং জুবাইদুল ইসলাম শামীম মোটা দেনমোহরে মাহফুজের তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে বিয়ে করতে বাধ্য হন।
ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। ভাইরাল হওয়া ছবি ও ভিডিওতে শামীমকে বেঁধে মারধরের দৃশ্য দেখা যায়। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
বিষয়টি জানার পর জামালপুর জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল গত ৬ জানুয়ারি মঙ্গলবার জুবাইদুল ইসলাম শামীমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করে। নোটিশে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে জামালপুর জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, “জুবাইদুল ইসলাম শামীমের প্রকাশিত কর্মকাণ্ডের বিষয়ে শোকজ করা হয়েছে। জবাব পাওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”



