Image description

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। 

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে গিয়ে এই সমবেদনা জানান তিনি। পরে তিনি গুলশান কার্যালয়ে রাখা শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন।
 
সাক্ষাতের সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, জামায়াত নেতা এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, মোবারক হোসেন, সাইফুল আলম খান মিলন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাত শেষে জামায়াত আমির বলেন, ইতিহাসের একটা বিরল সম্মান নিয়ে খালেদা জিয়া চলে গেছেন। গতকাল তার বিদায়ের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানুষ আবেগ ও চোখের পানি দিয়ে বিদায় জানিয়েছে। এটা তার পাওনা ছিল। 

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া জাতির জন্য যা করেছেন সেই পাওনাটাই আল্লাহর পক্ষ থেকে পেয়েছেন। এই পাওনা দেখে আমরা অনুপ্রাণিত হই। আমরাও যদি জাতির জন্য এমন অবদান রাখতে পারি হয়তো মানুষ এমন বিদায় দেবে। 

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশ গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে আছে। সামনে একই দিনে জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট। ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখের এই নির্বাচন নির্বিঘ্ন ও গ্রহণযোগ্য হোক। আজকেও এই বিষয় নিয়ে আমরা আলাপ আলোচনা করেছি। আমরা এটাও বলেছি দেশের স্বার্থে অতীতেও আমরা একসাথে কাজ করেছি, আগামীতেও করবো। তারেক রহমানসহ বিএনপির নেতৃবৃন্দ একই আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন। 

তিনি আরও বলেন, ৫ বছরের জন্য জাতির স্থিতিশীলতার স্বার্থে আমরা সবাই মিলেমিশে ভালো কিছু চিন্তা করতে পারি কি না সেটাও আমাদের স্বার্থকতা। নির্বাচনের পরপরই সরকার গঠনের আগে আমরা বসবো, খোলা মনে কথা বলবো জাতির কথা চিন্তা করবো এবং জাতির জন্য সিদ্ধান্ত নেবো। খালেদা জিয়া যে ঐক্যের পাটাতন তৈরি করে গেছেন তার ওপর দাঁড়িয়ে আমরা যেন দায়িত্ব পালন করতে পারি।

এর আগে, বুধবার বিকেল তিনটায় সংসদ ভবনের মাঠ ও সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়ার জানাজা নামাজ সম্পন্ন হয়। জানাজায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসসহ দেশ-বিদেশের গন্যমান্য ব্যক্তিসহ লাখ লাখ মানুষ অংশ নেয়।

এরপর বিশেষ একটি বাহনে করে খালেদা জিয়ার মরদেহ সাবেক রাষ্ট্রপতি ও তার স্বামী জিয়াউর রহমানের সমাধির কাছে নেওয়া হয়। সেখানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদার পর জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে খালেদা জিয়াকে দাফন করা হয়।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন খালেদা জিয়া, কারাভোগ করেছেন। চিকিৎসার সুযোগও দেওয়া হয়নি। ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়েন বেগম জিয়া। এরপর করোনার কারণে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দিলেও গুলশানের ভাড়া বাসা ‘ফিরোজা’য় বন্দি রাখা হয়। 

আওয়ামী লীগের শাসনামলে চিকিৎসা না পাওয়ায় ধীরে ধীরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয় খালেদা জিয়ার।

এরমধ্যে ২০২৪ সালের জুলাইতে কোটা সংস্কার আন্দোলন দাবিতে দেশজুড়ে শুরু হয় আন্দোলন, যা শেষ পর্যন্ত সরকার পতনের আন্দোলনে গড়ায়। টানা ৩৫ দিনের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে পর ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যায় শেখ হাসিনা। পরদিন ৬ আগস্ট খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। 

এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। ১১৭ দিন লন্ডনে অবস্থান শেষে গত ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন। তার স্বাস্থ্যের অনেকটা উন্নতি হয়েছিল। তবে নানা রোগে জটিলতা ও শরীর–মনে ধকল সহ্য করে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। বয়সও ছিল প্রতিকূল। প্রায়ই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়তেন। হাসপাতালে ভর্তি করানো হতো। 

সবশেষে গত ২৩ নভেম্বর তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এক মাসের কিছু বেশি সময় তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টায় খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন।