পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পাশাপাশি তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় অন্যতম একটি নফল ইবাদত। এর ফজিলত ও সওয়াবও অনেক। ফরজ নামাজের পর তাহাজ্জুদ নামাজ সবচেয়ে উত্তম।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মহামহিম আল্লাহ তা’য়ালা প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকাকালে নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেন- কে আছে এমন যে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দেবো। কে আছ এমন যে আমার কাছে চাইবে? আমি তাকে তা দেবো। কে আছ এমন আমার কাছে ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করবো। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১০৭৯)
হাদিস অনুযায়ী, মধ্যরাতের পর থেকে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া ভালো। আর শেষ রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা সবচেয়ে উত্তম। তবে ফজরের ওয়াক্ত হয়ে গেলে তাহাজ্জুদ পড়া যাবে না। ইবনু ওমর (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, সুবহে সাদিকের সঙ্গে সঙ্গে রাতের সালাত (তাহাজ্জুদ) ও বিতরের ওয়াক্ত চলে যায়। সুতরাং, তোমরা সুবহে সাদিকের পূর্বেই বিতর আদায় করে নেবে। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ৪৬৯)
এ ক্ষেত্রে গরমকালে তাহাজ্জুদ আদায়ে তেমন অনীহা না থাকলেও শীতকালে ঠান্ডাজনিত কারণে অনেকেই তাহাজ্জুদ আদায়ে অনীহা প্রকাশ করেন। আবার কেউ কেউ শীতের রাতে তাহাজ্জুদ আদায়ের ক্ষেত্রে অজুর বদলে তায়াম্মুমের কথাও বলে থাকেন। আসলেই কি শীতকালে তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য অজুর বদলে তায়াম্মুম করা যাবে?
ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ’র ভাষ্য, তায়াম্মুম তখন করা যায়, যখন কারও পানি ব্যবহার করার সক্ষমতা থাকে না। এ ক্ষেত্রে অসুস্থতাজনিত কারণে কারও যদি পানি ব্যবহার করলে ভয়াবহ অসুস্থতার মুখে পড়া কিংবা শারীরিকভাবে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তখন তিনি পানি দিয়ে অজুর বদলে তায়াম্মুম করতে পারবেন।
জনপ্রিয় এই ইসলামিক স্কলারের মতে, যতক্ষণ পর্যন্ত কেউ পানি ব্যবহারে সক্ষম, ততক্ষণ পর্যন্ত অজুর ক্ষেত্রে পানিই ব্যবহার করতে হবে। নফল নামাজের ক্ষেত্রে হলেও সামর্থ্য থাকা অবস্থায় পানি ব্যবহার করেই অজু করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কারও যদি ঠান্ডা পানি দিয়ে অজু করতে কষ্ট হয়, তবে প্রয়োজনে গরম পানি দিয়ে অজু করতে হবে।



