গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ঝিনাইদহ-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাশেদ খান কর্তৃক চাকরিসহ বিভিন্ন প্রলোভনে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। এ সময় তারা বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সোমবার দুপুর ১২টার দিকে কালীগঞ্জ শহরের একটি মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন- ব্যাংকার রাসেল আহমেদ, তার বাবা তাজউদ্দিন আহমেদ, গণঅধিকার পরিষদের জহুরা বেগম ও রাসেল আহমেদের স্ত্রী। রাসেল আহমেদ পেশাজীবী পরিষদের সভাপতি। তিনি অগ্রণী ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত। বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। এ সময় তিনি রাশেদ খানকে টাকা দেওয়ার বিভিন্ন প্রমাণাদি সাংবাদিকদের সরবরাহ করেন।
রাসেল আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন, রাশেদ খান বিভিন্ন সময় প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ নিয়েছেন। তিনি অসচ্ছল পরিবারের সন্তান। জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে। সেক্ষেত্রে ঝিনাইদহ-২ আসন থেকে এমপি হতে পারলে সবার জন্য সুবিধা হবে। সেই প্রলোভন দেখিয়ে বিশেষ করে আমার কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। তিনি (রাশেদ খান) সব সময় বলতেন- আমি গরিবের সন্তান। আপনারা আমাদের পাশে থাকলে অন্তত একটু ভালো অবস্থানে যেতে পারবেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে দলের প্রোগ্রাম বাবদ ও নিজের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার জন্য টাকা নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, তিনি (রাশেদ খান) বিভিন্ন সময় বলতেন- জাতীয় পর্যায়ে রাজনীতি করলে একটা ভালো মোবাইল ফোন ছাড়া হয় না। তার হাতের আইফোন যার দাম ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। সেই টাকাও আমার কাছ থেকে নিয়েছেন। তার একটি ল্যাপটপ, ঘরের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে কিনেছেন। সর্বশেষ তিনি (রাশেদ খান) যখন ঝিনাইদহতে একটি গাড়িতে আসেন। সেই গাড়ির ১৬টি কিস্তির টাকা আমার কাছ থেকে নেওয়া। গাড়িটা ঢাকার একজনের নামে। তার এই অর্থ দিতে গিয়ে আমার পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। তার জন্য ব্যাংকে একটি আর্থিক কেলেঙ্কারিও ঘটেছে।
রাসেল আরও বলেন, আমি রাশেদ খানের খুব কাছে ছিলাম। এসব টাকা ফেরত চাইলে তিনি (রাশেদ খান) বিভিন্নভাবে হুমকি দিতেন। সর্বশেষ গতকালও টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে কিন্তু সেই টাকা ফেরত দেয়নি। অনেক মানুষের টাকা তার পকেটে। সেই টাকা দিয়ে বিলাসী জীবনযাপন করছে। আপনারা জানেন না সে কত বড় বাটপাড়।
সংবাদ সম্মেলনে কাঁদতে কাঁদতে তিনি আরও বলেন, আমি একজন ব্যাংকার মানুষ। আজ আমাকে রাশেদ খানের জন্য সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হতে হচ্ছে। বিভিন্ন সময় তাকে টাকার কথা বললে আজ না কাল বলে ঘুরায়। দেড় বছরে প্রায় ৩২ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে নিয়েছে। গতকালও ৩টা ২২ মিনিটে ফোন দিয়ে বলেছে- টাকাটা দিয়ে দেব। চীন সফরের আগেও আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কারো সুবিধার জন্য এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়নি। আজ সকাল ১০টার মধ্যে টাকা দেওয়ার কথা ছিল। সেই টাকা না পেয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়নের আমিরুল ইসলাম বলেন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝিনাইদহ শাখায় পিয়ন পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে রাশেদ খান ৫ লাখ টাকা নিয়েছেন। কিন্তু সেই চাকরি ও টাকা কিছুই পাইনি।
রাসেল আহমেদের স্ত্রী রাশিদা খাতুন বলেন, রাশেদ খান আমাদের বাসায় বিভিন্ন সময় যেতেন। তাদের সঙ্গে একটা পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। রাশেদ খানের মা বলতেন- রাশেদ আর রাসেল আমার দুই ছেলে। রাশেদ খান আমাদের সঙ্গে যে প্রতারণা করবে এটা বুঝতে পারিনি।
নারী অধিকার পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক জহুরা বেগম বলেন, নির্বাচন করার জন্য আমার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়েছেন।
এ ব্যাপারে গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নাই। আমি কাউকে কখনো চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা নেইনি। রাসেল পেশাজীবী পরিষদের সভাপতি ছিলেন। তিনি ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এরপর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছি।



